ভোলায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

এ.সি.ডি.অর্জুন
“একুশ মানে মাথা নত না করা,একুশ মানে মায়ের ভাষায় কথা বলা” ১৯৫২ সালের এই মনোভাব বুকে ধারন করেই সারাদেশের সাথে একযোগে ভোলায় উদযাপন করা হল শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬।
শনিবার(২১ফেব্রুয়ারি’২৬) বাঙ্গালি জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি উদযাপনের শুরুতে মায়ের ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহিদ বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন সর্বস্তরের মানুষ।
ঘরির কাটায় রাত ১২.০১ মিনিটে প্রথমে ভোলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন করেন জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমান এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন করেন পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার। এর পর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সকল সরকারি দপ্তর,রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ভোলা সরকারিস্কুল মাঠে অবস্থিত শহিদ বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পনের পর ভাষা শহিদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং ভিউগলে করুন সুরের মাধ্যমে মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ডিসি ডাঃ শামীম রহমান।
সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় বিশেষ অতিথি ও পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহফুজুর রহমান,সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী অফিসার পিন্টু বেপারী,স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান,সিনিয়র সাংবাদিক শওকাত হোসেন,জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী মোঃ হারুন অর রশিদ ও ৩ জন শিক্ষার্থী।
জেলা প্রশাসনের আরডিসি সজল কুমার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা সকলেই দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল ক্ষেত্রেই বাংলাভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় আয়োজনের শেষ পর্ব পুরস্কার বিতরনী। দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা গ্রহন্থাগার ও জেলা শিশু একাডেমিতে শিশুদের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুস্কার বিতরন করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিগণ।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্খিত ছিলেন।

