শিরোনাম

ডিসির বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙ্গার ২৫ দিনের মাথায় বদলি হলেন ভোলার জেলা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমান

 

স্টাফ রিপোর্টার

বদলি করা হলো ভোলার সর্বমহলে সমালোচিত জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমানকে। সোমবার(১ সেপ্টেম্বর’২৫)সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই জজকে বদলী করেন রাজশাহী জেলায়।

এদিকে হঠাৎ জজের বদলীর কথা শুনে ভোলা শহরের বিভিন্ন সচেতন মহলের মধ্যে জোড়ালো আলোচনা ও সমালোচনা করতে শুনা যায় যে,এই জজ নিজে দাড়িয়ে থেকে ডিসি’র বাংলো ও রেকর্ড রুমের নবনির্মিত সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দেয়ার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বদলী করা হলো তাকে।

বাউন্ডারী ওয়ালটি ভাঙ্গার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)বলেন,”জজ মাহমুদুর রহমানের হঠাৎ বদলিতে এটাই প্রমানীত হল যে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সর্বোচ্চ নেতাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ডিসির বাউন্ডারী ওয়ালটা ভেঙ্গেছিলেন”।

উল্লেখ্য গত ৭ আগস্ট ২০২৫(বৃহস্পতিবার) সকাল সারে ১১ টায় ভোলা শহরে অবস্থিত জেলা প্রশাসক(ডিসি)র সরকারি বাসভবন ও তৎসংলগ্ন রেকর্ড রুম ভবনের নবনির্মিত সীমানা প্রাচীরটি নিজে স্বশরীরে দাড়িয়ে থেকে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুর রহমান।

ঐদিন সকাল ১১.৩০ টায় সরকারি মহিলা কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ জজ কোর্টের বাউন্ডারির মধ্যে অবস্থিত পিছনের রাস্তার প্রবেশ পথে দৃষ্টি গেলে দেখা যায় রাস্তাটির পশ্চিম প্রান্তে অর্থাৎ ডিসির বাংলো ও রেকর্ডরুমের পিছনে নবনির্মিত সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার কাজ চলছে।

এ সময় নবনির্মিত সসীমানা প্রাচীর ভাঙা সম্পর্কে জানার জন্য এই প্রতিবেদক কিছু পথ এগিয়ে ঘটনাস্থলের ১০ ফুট দুরত্বস্থানে পৌঁছলে জজ কোর্টের পেশকার আক্তার হোসেন বিপ্লব ঘটনাস্থল থেকে দ্রুতবেগে এসে প্রতিবেদকের গতি রোধ করে বলেন,” জেলা জজ স্যার আপনাকে এখানে আসতে নিষেধ করেছেন। তাই আপনি আর সামনের দিকে না এসে বরং চলে যান”।

এ সময় সাংবাদিক জেলা জজের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলে আক্তার বলেন,”আপনি স্যারের সাথে কথা বলতে চাইলে আমাদের বাউন্ডারির বাহিরে গিয়ে নতুন বাউন্ডারি(ডিসির বাউন্ডারি)র ভিতর দিয়ে ঘুরে আসেন”।

তখন ঐ সাংবাদিক নতুন বাউন্ডারির পকেট গেটের জন্য রাখা ফাঁকা স্থানদিয়ে প্রবেশ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জেলা জজ মহোদয়কে সালাম দেয়া মাত্রই তিনি পূর্ব পরিচিত হিসেবে সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন,”আপনি এখন একটা রিপোর্ট(নিউজ)করে দেন। অবৈধভাবে ওয়ালটা তৈরি করার সময় রিপোর্ট করলেন না কেন?”।

বিচারকের কথার উত্তরে সাংবাদিক বলেন,”স্যার আমরাতো কাগজপত্র দেখিনি। তাহলে কিভাবে বুঝবো যে ডিসি এটা অবৈধভাবে তৈরি করেছেন”? তখন জজ বলেন,”তাতো বুঝলাম। এখনতো রিপোর্ট করতে পারেন”।

সাংবাদিক বলেন,”স্যার নিউজ করতে হলেতো তথ্য ও ছবি প্রয়োজন। কিন্তু আপনার লোক আক্তারতো আমাকে ঘটনাস্থলেই আসতে বাধা দিলো”।

জজ ও সাংবাদিকের কথোপকথনের মধ্যেই জজ কোর্টের জিপি এডভোকেট ছালাউদ্দিন হাওলাদার সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে বারংবার বলতে থাকেন যে,”আপনাকে এই ঘটনার খবর দিলো কে? তার নাম বলেন। তাকেই আগে ধরতে হবে। আমি বুঝতে পারছি আপনাকে কে পাঠাইছে”। উত্তরে সাংবাদিক বলেন,”মহোদয় সাংবাদিকদেরতো সোর্স থাকবেই”।

অন্য দিকে একই সময়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত রাগান্বিত কন্ঠে সাংবাদিককে বলেন,”তোমাকে এখানে আসতে বলছে কে? যাও যাও, এখান থেকে যাও। কোন ছবি তুলবানা”।

তাপরও সাংবাদিককে জজের সাথে কথা বলতে দেখে বাছেত বারবার সাংবাদিককে ধমক দিয়ে বলেন তোমাকে যেতে বলছিনা? যাবা কিনা? তখন সাংবাদিক আইনজীবী বাছেতকে সম্মান দেখিয়ে ৬ ফুট দূরে গিয়ে দাড়ালে বাছেত আরো রাগান্বিত কন্ঠে সাংবাদিকের ওপর চটে যান।

তখন সাংবাদিক বাছেতকে বলেন,”একটা ঘটনা ঘটলে সাংবাদিক হিসেবে আমরা কি আসতে পারিনা? উত্তরে বাছেত বলেন,আমাকে তুমি শিখাও? এ সময় উপস্থিত জজ কোর্টের কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ সাংবাদিককে গায়ে হাততোলার হুমকি দিতেও শুনা যায়।

একপর্যায়ে বাছেতের কঠিন ভাষায় করা রুঢ় আচরণের জন্য সাংবাদিক তথ্য এবং ছবি সংগ্রহ না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এ সময় কোর্টের অনেক কর্মচারীসহ বেশ কিছু লোক সাবলসহ অন্যান্য লোহার যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নবনির্মিত ওয়ালের দুই প্রান্ত ভাঙ্গার কাজ সম্পন্ন করে এবং ভাঙ্গা অংশগুলো সরিয়ে ফেলেন।

ভাঙ্গার সময় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোঃ ফরিদ উদ্দিন,জজ কোর্টের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন বিচারক এবং নায়েব নাজির মোঃ নিরব হোসেনসহ বিভিন্ন শাখার বেশ কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এর কিছুক্ষণ পর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং এনডিসি তাজবিউল ইসলাম ইসকেম সহ কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রেকর্ড রুমের ছাদ মেরামত কাজে কর্মরত কেউ একজন ছবি তুলছে বলে তার মোবাইল জজ কোটের লোকজন জব্দ করেছেন বলে জানান এনডিসি।

অন্যদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ালটি নির্মানের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর,”ভোলা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ উদ্দিন বলেন,”জজ কোর্টের লোকজন ওয়ালটি ভেঙ্গে ফেলেছে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা আমাদের পক্ষ থেকে ভোলা সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছি। বাকীটা সময় বলবে”।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক(ডিসি) মোঃ আজাদ জাহান বলেন,”আমরা আইন মেনেই ওয়ালটা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াল তৈরির কাজ চলাকালিন কোনরুপ আপত্তি না জানিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ হওয়ার পর জজ সাহেব কেন বা কাদের পরামর্শে ওয়ালটি ভাঙ্গলেন তা আমার বোধগম্য নয়। তবে আমি আমার উর্ধতনকে বিষয়টি অবহিত করেছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত উর্ধতন কর্তৃপক্ষ নিবেন”।

ফেসবুকে লাইক দিন