ভোলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি অনু,সম্পাদক লিটন

এ.সি.ডি.অর্জুন
ভোলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে এডভোকেট নজরুল হক অনু এবং সাধারন সম্পাদব পদে নাসির উদ্দিন লিটন নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার(১১ এপ্রিল’২৬) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা ভোটগ্রহণে মোট ৪৬ জন ভোটারের মধ্যে ৪৫ জন ভোটার নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং বাকী ১জন অসুস্থতার জন্য ভোট থেকে বিরত থাকেন।
অংশগ্রহণমুলক এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরতিহীন ভাবে টানা ৩ ঘন্টা ভোট গ্রহণের পর ভোট গণনা করা হয়। সকল প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোট গণনার পর ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় ২০ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট নজরুল হক অনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আহাদ চৌধূরী তুহিন পেয়েছেন মাত্র ৭ ভোট। অন্য দিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নাসির উদ্দিন লিটন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এডভোকেট মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ১২ ভোট।
এছাড়া সহ-সভাপতি পদে মোঃ সুলাইমান,যুগ্ন সম্পাদক পদে মোঃ কামরুল ইসলাম,কোষাধ্যক্ষ পদে মোঃ নুরে আলম ফয়েজউল্লাহ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হলেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় দপ্তর সম্পাদক পদে ছোটন সাহা এবং নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোতাছিন বিল্লাহ। নির্বাহী সদস্যের একটি পদ শূণ্য রয়েছে।
ভোলা প্রেসক্লাব মিলনাতয়নে অনুষ্ঠিত দুই বছর মেয়াদী কার্যনির্বাহী কমিটির এই নির্বিচনে সভাপতি পদে ৩ জন ও সম্পাদক পদে ৬ জনসহ বিভিন্ন পদে মোট ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ভোলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ কামাল হোসেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান,জেলা বিএনপি নেতা এনামুল হক মাস্টার,ইয়ারুল আলম লিটন,এডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত,এডভোকেট মোঃ ইউছুপ,এডভোকেট মোঃ আরিফুর রহমান ও এডভোকেট মোঃ তোহা।
উল্লেখ্য ৫ আগস্ট ২০২৪ এর গণ অভ্যূত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের পর দীর্ঘ প্রায় পৌনে ২ বছর নেত্রিত্বশূণ্য ছিল ভোলা প্রেসক্লাব। এর মধ্যে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষে একাধিকবার বেশ কয়েকটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হলেও সেসব কমিটি সদস্য নেয়ার ক্ষেত্রে বারংবার বিতর্কের জন্ম দেয়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে মিছিল,মানববন্ধন ও সোসাইল মিডিয়ার মাধ্যমে ভোলায় কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিক সমাজ অনাস্থা প্রকাশ করেন এবং নতুন সদস্য নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা শতভাগ প্রকাশ পায়।
সর্বপরি ভোলা প্রেসক্লাবের অচলাবস্থা দূর করার লক্ষে পূর্বের ৪৬ জন সদস্যের মধ্যেই নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সকল সদস্য বৃন্দ। আর সেই ধারাবাহিকতায় শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোলা প্রেসক্লাব পেলো একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি।

