শিরোনাম

ভোলায় পৌরসভার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে হামলা করে পৌরসভার ৩টি গাড়ি পুড়িয়ে দিল অবৈধ দখলদাররা

 

নিরপেক্ষ:

ভোলা শহরের নতুন বাজার চত্বরের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ভোলা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এ সময় অভিযানে হামলা করে অবৈধ দখলদাররা।

শনিবার(২৪ অক্টোবর’২৫) বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলা অভিযান সম্পর্কে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)নতুনবাজার এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটসহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ অবৈধ দখলদাররা পৌরসভার লোকদের ওপর হামলা চাললায়। তখন উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে এবং এক পর্যায়ে দখলদাররা পৌরসভার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়”।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোঃ ফারুক বলেন, নতুনবাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও হকাররাসহ অবৈধ দখলদাররা দীর্ঘদিন যাবত পৌরসভার জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা করে আসছিল। বহুবার নোটিশ দেওয়ার পরেও তারা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি।

তাই সর্নোবশেষ নোটিশের তারিখ অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও অনেকদিন পর আজ সকল অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সকল অবৈধ দখলদারা একত্রিত হয়ে পৌরসভার কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং পৌরসভার তিনটি ময়লা বহনকারী পিকআপ ভ্যানে আগুন জালিয়ে দেয়”।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পৌরসভার এক কর্মী বলেন, “উচ্ছেদ অভিযান চালানোর শেষ মুহূর্তে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মাহাফুজুর রহমানের নেতৃত্বে অবৈধ দখলদাররা লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

তাদের হামলায় আমিসহ ১৫-২০ জন আহত হই। এ সময় হামলাকারীরা আমাদের পৌরসভার তিনটি ময়লা বহনকারী পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী পৌরসভার পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বলার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে”।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমাদের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দোকান ভেঙে ফেলেছে পৌরসভার লোকজন”।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও ভোলা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা বেশ কয়েকদিন ধরে পৌর এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছিলাম। আজ ছিল এ অভিযানের শেষ দিন। যারা অবৈধভাবে পৌরসভার স্থাপনা দখল করেছিল তারাই শেষ মুহূর্তে ময়লা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এবং কোন মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ডিডিএলজি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হিসাব করে বলতে হবে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে”।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন,”আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক মোঃ আজাদ জাহান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রত গ্রেফতারের দাবিতে ভোলা পৌরসভার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষনা দিয়েছে পৌরকর্মচারী এ্যাসোসিয়েশন।

ফেসবুকে লাইক দিন