শিরোনাম

“পাস করতে হলে পড়তে হবে,আর কোন বিকল্প নেই”- প্রধান শিক্ষক আজাহার

 

এ.সি.ডি.অর্জুন/নিরপেক্ষ

 

“এখন স্লোগান একটাই,পাস করতে হলে পড়তে হবে। আর কোন বিকল্প নাই। বিগত দিনে পড়া লাগেনাই”। কথাগুলো বলছিলেন ভোলা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাহারুল হক।

বুধবার(৬আগস্ট’২৫) দুপুরে স্কুলে অনুষ্ঠিত অভিভাবক সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে প্রধান শিক্ষক আরো বলেন,”আমরা দেখেছি,আমাদের ছাত্ররাই বলছে যে,স্যার এ্যানসার করেছি ৬০ মার্কের কিন্ত ৮০ পেলাম কি ভাবে”?

ভোলা শহরের সন্তান আজাহার বলেন,এখন থেকে ৮০% উপস্থিত থাকতে হবে। আমি এ্যাডমিট কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। ছাত্রদের বেতন, উপস্থিতিসহ বিভিন্ন ইস্যুগুলো কঠোর ভাবে দেখা হবে। আগের পড়া ছিলো ক্লাস নির্ভর ও বিভিন্ন প্রজেক্ট নির্ভর। মুখস্ত করার কিছুই ছিলোনা।

আর সেই এ্যাফেক্টটা এই ব্যাচের মধ্যেই বেশি প্রভাব ফেলেছে। তাই সেই ঘাটতিটা কাটাতে হলে বেশি বেশি পড়তে হবে। তাছাড়া বোর্ডেরও কড়া নির্দেশনা আছে যে,টেস্ট পরিক্ষায় এক সাবজেক্ট ফেল করলে তাকে ফরম ফিলাফ করতে দেয়া হবেনা”।

দিবা শাখার দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের অর্থাৎ ২০২৬ সালের এস এস সি পরিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সমাবেশে কয়েকজন অভিভাক যখন অভিযোগ করে বলেন যে, “দিবা শাখার স্যারেরা ভোর ৬ টা থেকে দুপুর ১২ পর্যন্ত বাসায় বা কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে যখন স্কুলে আসেন তখন ক্লাসে মনযোগ দিয়ে পড়াতে পারেননা।

অর্থাৎ তাদের কাছে বাসাটা স্কুল আর স্কুলটা হলো রেস্টের যায়গা। তাই বাচ্চারা বাসায় গিয়ে বলে,আম্মু স্কুলে গিয়ে কি লাভ? স্যারেরা ক্লাসে আসেনা। আবার আসলেও বসে বসে ঘুমায়। কিন্তু পড়ায়না। তাই আমাদের মতে স্যারেরা কোচিং প্রাইভেট বাদ দিয়ে ক্লাসে মনযোগ দিয়ে পড়ালেই সকল ছাত্র স্কুলে উপস্থিত থাকবে।

অভিভাবকদের এরুপ অভিযোগ গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে স্কুলের উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ হাতে নেয়া এই প্রধান শিক্ষক বলেন,”আপনাদেরকে ধন্যাদ গুরুত্বপূর্ণ এই কথাটি উপস্থাপন করার জন্য। আমি এই বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুতই শিক্ষকদের সাথে বসবো এবং এর সমাধান করবো।

আপনারা শুধু আপনার সন্তান যে প্রতিদিন স্কুলে আসছে এবং প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত ছিলো তার প্রমান স্বরুপ খাতায় প্রত্যেক শিক্ষকের স্বাক্ষর আছে কিনা তা দেখবেন। তাহলেই ছাত্র-শিক্ষক কেউ আর ক্লাস ফাঁকি দিতে পারবেনা”।

প্রধান শিক্ষকের এরুপ পদক্ষেপের কথা শুনে অভিভাবকগণ তার প্রতি ধন্যবাদ ও সহযোগিতার আস্বাস প্রদান করেন এবং ইতি মধ্যে বেশ কিছু উন্নয়নমুলক কাজ করায় স্যারের প্রশংসা করেন।

ভোলা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে অনুষ্ঠিত অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান ও সিনিয়র শিক্ষক মোঃ কামরুজ্জামানসহ ইংরেজি ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকগণ।

উল্লেখ্য একই দিন সকালে প্রভাতী শাখার ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথেও মতবিনিময় করেন স্কুলের উন্নয়নে শতভাগ আন্তরিক এই প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাহারুল হক।

ফেসবুকে লাইক দিন