শিরোনাম

“ভোলার বাজার যেটা যেখানে আছে সেটা সেখানেই থাকবে”- পৌর প্রশাসক মিজান

 

এ.সি.ডি অর্জুনঃ

“আমি ভোলার কেউনা। সরকার আমাকে ভোলায় পাঠিয়েছে আপনাদের কাজ বা সেবা করার জন্য। আমি চাই ভোলাটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে। কাউকে উচ্ছেদ করা আমার উদ্দেশ্য নয়”। কথাগুলো বলছিলেন ভোলা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও ভোলা পৌসভার প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান।

ভোলা শহরে অবস্থিত কিচেন মার্কেট ও কাঁচা বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যস্ততম বাজার গুলো চরনোয়াবাদ গরুর হাটে স্থানান্তরিত করার বিষয়ে বুধবার(১৯ ফেব্রুয়ারি’২৫) বিকাল ৪ টায় পৌরবাসির সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,”আপনাদেরকে কেউ হয়তো ভুল বুঝিয়েছে। কেননা কাউকে উচ্ছেদ করার জন্য নয় বরং শহরের যানজটসহ নানান সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্য আপনাদের মতামত গ্রহণ করার লক্ষেই আজকের এই সভা”।

সভায় আমন্ত্রণকৃত চিঠিতে উল্লেখিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সভায় উপস্থিত সকলের কঠোর বিরোধীতামুলক বক্তব্য শুনার পর ডিডি এলজি মিজান বলেন, “কিচেন মার্কেট সহ বাজারের যেটা যেখানে আছে সেটা সেখানেই থাকবে। আপনারা শুধু আরো জাকজমক পূর্ণ ভাবে আপনাদের স্ব স্ব ব্যবসা পরিচালনা করেন”।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কিচেন মার্কেট উন্মুক্ত করে দেয়ার প্রশ্নে সরকারের এই উপ সচিব বলেন, “কিচেন মার্কেটের ঘরগুলো যাদের কাছে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিলো তাদেরকে উঠাতে হলে আগে তাদের টাকাটাতো ফেরত দিতে হবে। কিন্তু তারা(সাবেক মেয়র) পৌরসভার ফান্ড শূন্য করে রেখে গেছে। তাহলে আমি দোকান মালিকদের টাকা কোথা থেকে ফেরত দিবো? তাছাড়া মার্কেট বন্ধ করে দিলেতো পৌরসভার স্টাফদের বেতনও দিতে পারবোনা। তাই আপনারা আমাকে একটু সময় দিতে দিন। আমি কথা দিচ্ছি যে, সকল অনিয়ম অসঙ্গতি দুর করে ভোলা শহরকে একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলবো”।

খাল পারের ঘরগুলোর বিষয়ে পৌর প্রশাসক বলেন,”খাল খননের সময় ওগুলো এমনিতেই ভাঙ্গা পরবে। তাই ওগুলো নিয়ে আলাদা করে চিন্তার কিছু নেই”।

পৌরসভার রাস্তাগুলোর বেহাল দশা সম্পর্কে ভোলার এই ভারপ্রাপ্ত ডিসি বলেন, “পৌরসভার প্রতিটি ভাঙ্গা রাস্তা নতুন করে তৈরি করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত গতিতে কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে”।

বুধবার(১৯ ফেব্রুয়ারী’২৫) বিকাল ৪ টায় অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় সকল ব্যাবসায়ী ও পৌরবাসির পক্ষে মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেন জাতীয় পার্টির ভোলা জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সাবেক প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম খান ও হুমায়ুন কবির সোপান,আজকের ভোলা পত্রিকার সম্পাদক শওকাত হোসেন,ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারী মাওঃ তরিকুল ইসলাম,সাংবাদিক এ.সি.ডি অর্জুন ও মেসবা উদ্দিন শিপু এবং তালহা তালুকদার বাঁধন সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতেই বিগত সরকারের আমলে ভোলা পৌরসভার মেয়র,সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী সহ সকল দুর্নিতীবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারনে ভোলা শহরের বেহাল দশার চিত্র সকলের সামনে তুলে ধরেন বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ মফিজুল ইসলাম মিলন। তাছাড়া সভা শুরুর পূর্বে বাজার স্থানান্তরের বিরুদ্ধে বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশেও নেতৃত্ব প্রদান করেন বিএনপি নেতা মিলন।

একটানা প্রায় ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলা টানটান উত্তেজনামুলক সভার সমাপনী বক্তব্যে ভদ্রলোক মিজান বলেন,”আমি আপনাদের যানজটসহ সকল সমস্যার সমাধান কল্পে আপনাদের দেয়া পরামর্শগুলো আমি লিখে নিলাম। পরবর্তীতে আপনাদেরকে নিয়েই এগুলোর বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো”।

পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভোলা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন আরজু,সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান,সদর উপজেলার এসিল্যান্ড আহসান হাফিজ,পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক অধ্যক্ষ দুলাল ঘোষ এবং সকল স্তরের ব্যবসায়ী ও পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ গন্যমান্য পৌরবাসিগণ।

ফেসবুকে লাইক দিন