নতুন বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে” – জামায়েত সেক্রেটারী পরওয়ার

এ.সি.ডি.অর্জুন
“সৈরাচারী শাসক হাসিনার হাত থেকে মহান আল্লাহ আমাদের মুক্ত স্বাধীন করেছেন বলেই আমি আজ মুক্ত বাতাসে ভোলায় এসে আপনাদের সামনে কথা বলতে পারছি। ১৪, ১৮,২৪ তিনটা নির্বাচনে আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি। কারন আমরা কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই তারা আমাদের ভোট দিয়ে ফেলেছে”। আক্ষেপের সাথে কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
‘আল্লাহর আইন চাই,সৎ লোকের শাসন চাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার(২৫ জানুয়ারি) ভোলায় অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরওয়ার আরো বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনে বহু রক্তের বিনিময়ে সৈরাচারী ও খুনি হাসিনার পতনের মাধ্যমে আমরা যেই নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি সেখানে হিন্দু মুলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গত ১৮ বছর ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের কালো যুগ। কেননা এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলো”।
ভোলা জেলা জামায়েতের আমীর মাস্টার জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলটির সেকেন্ড ইন কমান্ড আরো বলেন,”খুনি হাসিনা মনে করেছিলো আমি আর আমার গুষ্টি শেখ পরিবার ছাড়া কারো কথা এদেশে চলবেনা। তার সেই দাম্ভিকতার কারনেই তাকে মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে জীবন নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিলো। খুনি হাসিনার নির্দেশে ২০০৬ সালে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৭ জন ছাত্রকে লগিবৈঠা দিয়ে হত্যা করে তাদের লাশের ওপর লাফালাফি করেছিলো। তিনি বলেন, বিচার,আইন,আদালত সবকিছুই চলতো তার আদেশে”।

ভোলা জেলা জামায়েতের সেক্রেটারি মোঃ হারুনুর রশিদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সাবেক সাংসদ পরওয়ার বলেন, “ভোলার সম্পদ গ্যাস নিতে হলে বরিশাল ব্রিজ,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ দিতেই হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “ভোলা-বরিশাল ব্রিজ প্রজেক্ট একনেকে পাশ হওয়ার পরও কেন সেই প্রজেক্ট বন্ধ হলো? মেডিকেল কলেজ বরাদ্ধ হওয়ার পরও কার ইশারায় সেটা অন্যত্র চলে গেলো? ভোলার গ্যাস কেন ভোলার মানুষকে না দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাবে? সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,আমরাও সংস্কার চাই। কিন্তু যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করে নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষনা করতে হবে।
জামায়েত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতি ধর্ম বর্ণ, গরীব ধনী নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ইনসাফের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। তাই আপনারা জামায়েতের সাথে থাকুন”। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহঃ সেক্রেটারী জেনারেল এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ডক্টর আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ ও ডাঃ এ কে এম ফকরুদ্দিন খান রাযী এবং ভোলা জেলা ও উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য প্রায় ১৮ বছর পর ভোলায় জামায়েত ইসলামীর বড় এই সম্মেলন সকাল ১০ টায় শুরুর পূর্বেই সরকারিস্কুল মাঠসহ পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
